বাংলাদেশ তার জ্বালানি ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে। বিষয়টি নিয়েই এই ওয়েবসাইটে আপনি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অব এক্সটার্নাল ডেবটের সর্বশেষ বিশ্লেষণ এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত পড়তে পারবেন।

বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা কি?

বাংলাদেশের বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা দেশের বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করে। জীবাশ্ম জ্বালানি নাকি নবায়নযোগ্য শক্তি – জ্বালানি নিরাপত্তা বিবেচনায় কোন খাতে সরকারকে বিনিয়োগ করতে হবে সে বিষয়ে এই মহাপরিকল্পনা নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে সুপারিশ প্রদান করে।

কোন জ্বালানি সবচেয়ে সাশ্রয়ী?

যদিও সরকার ক্ষতিকর কয়লা চালিত বিদ্যুৎ থেকে দূরে সরে যাওয়ার পদক্ষেপ নিচ্ছে, অন্যথায়, তারা আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এর ব্যবহার বাড়াচ্ছে। সরকার দীর্ঘমেয়াদে অস্থিতিশীল এবং’স্পট’ মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ের পরিকল্পনা করছে, যার মধ্যে, স্পট মার্কেট থেকে কার্গো দ্বারা যখন প্রয়োজন তখনই তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ক্রয় করা যাবে।

সাম্প্রতিক বছরগলোতে এলএনজির বাজারে অস্থিরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বিদেশে সরবরাহ সমস্যার কারণে সরকারকে প্রায়ই এলএনজি আমদানির জন্য বাজার মূল্যের তিনগুণ বেশি দাম পরিশোধ করতে হচ্ছে।

এদিকে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির খরচ বিশ্বব্যাপী হ্রাস পাচ্ছে এবং নানাভাবে বিশ্বের বিদ্যুৎ খাতে ব্যবহৃত গ্যাসের তুলনায় সাশ্রয়ী এবং আগামী বছরগুলোতে খরচ আরও কমবে বলে আশা করা যায়।

কোন জ্বালানি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য?

আমদানি করা গ্যাস, বা এলএনজি, ইতিমধ্যেই একটি অনির্ভরযোগ্য জ্বালানির উৎস হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে কারণ এটি বৈদেশিক বাজারের স্থিতিশীলতার সাথে সম্পর্কিত এবং এটি ঘনঘন স্পট মার্কেট থেকে কেনা হলে ঘাটতি কিংবা বাড়তি দামের মুখে পরতে পারে।

বাণিজ্যের আন্তঃসংযোগের কারণে হাজার হাজার মাইল দূরে কোনো দেশে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে তা বাংলাদেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। বিষয়টি ২০২১ সালের শুরুর দিকে ভালোভাবে টের পাওয়া যায় যখন টেক্সাসে বিদ্যুতের ঘাটতি বাংলাদেশ এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশে গ্যাসের বৈশ্বিক দামকে বাড়িয়ে দেয়।

ব্যাটারি স্টোরেজের অগ্রগতির সাথে সাথে নবায়নযোগ্য শক্তি অনেক নির্ভরযোগ্য উৎসতে পরিণত হয়েছে। অফ-গ্রিড প্রযুক্তির কারণে গ্রামের মানুষদের জন্যও এখন বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব যেগুলো আবার কেন্দ্রীয় বিদ্যুতের গ্রিডের সাথে সংযুক্ত নয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিদ্যুতে সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার পাশাপাশি দেশীয়ভাবে উৎপাদনের সুবিধাও রয়েছে।

কোন জ্বালানির ব্যবহার মানব স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে কম ক্ষতিকর?

এছাড়াও প্রমাণ রয়েছে যে এলএনজি মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে, যা শ্বাসকষ্টের সমস্যাগুলির ঝুঁকির সাথে সম্পর্কিত।

কোন জ্বালানির ব্যবহার জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে কম অবদান রাখে?

জলবায়ু পরিবর্তনে কয়লা একক বৃহত্তম অবদানকারী। কেননা, বিশ্বে ৪৬% কার্বন ডাই অক্সাইড এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে ৭২% গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের জন্য কয়লা পোড়ানোই দায়ী৷

গ্যাসের প্রধান উপাদান মিথেন যা কার্বন ডাই অক্সাইড এর পরে দ্বিতীয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনহাউজ গ্যাস। বায়ুমণ্ডলে ২৩০ গুণ বেশি কার্বন ডাই অক্সাইড থাকলেও মিথেন ২০ বছরে ৮৬ গুণ বেশি তাপ এবং এক শতাব্দীর মধ্যে ৩৪ গুণ বেশি তাপ তৈরি করে।

গ্যাস পোড়ানোর সময় কার্বন নির্গমন কয়লার তুলনায় যদিও কম উৎপন্ন হয়, কিন্তু তার সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় জলবায়ুর প্রভাব যেমন গ্যাসের উৎপাদন, পরিবহন এবং বিতরণের সময় মিথেন লিকের মাধ্যমে কার্বন নির্গমন হয় যা জলবায়ুতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। খালি চোখে সাধারণত দেখা যায় না বলে এটা “ফিউজিটিভ” নির্গমন নামেও পরিচিত। যখন এটা ৩.২% এর বেশি পৌঁছায়, তখন সে গ্যাস প্লান্টের জীবনচক্রে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন এর পরিমান কয়লার চেয়ে বেশি হয়।

নবায়নযোগ্য শক্তি গ্রিড ডিকার্বনাইজ করতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নবায়নযোগ্য শক্তি তার জীবদ্দশায় ৫০ গ্রাম CO2/kWh নির্গত করে, যা ১,০০০ গ্রাম CO2/kWh সমতুল্য কয়লা বা ৪৭৫ গ্রাম CO2/kWh- গ্যাসের তুলনায় মারাত্মকভাবে কম (NREL সমীক্ষা অনুসারে)। সুতরাং, নবায়নযোগ্য শক্তির তুলনায় কয়লা ১৯০০% ক্ষতিকারক এবং গ্যাস নবায়নযোগ্য শক্তির চেয়ে ৮৫০% বেশি ক্ষতিকর।

বিশ্লেষণ

২০২৪ পর্যন্ত ১১ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি কিনতে হতে পারে বাংলাদেশকে

আমদানির মাধ্যমে কয়েক বছর ধরেই দেশে গ্যাসের চাহিদা মেটানো হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যটির অস্থিতিশীল মূল্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সংকট তৈরি করেছে। ঊর্ধ্বমুখী দামের

Read More »

চলমান সংকটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে গুরুত্ব

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা ও টেকসই উন্নয়নে বেশ কয়েক দশক ধরেই বিভিন্ন দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে করোনা পরিস্থিতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি

Read More »

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনায় অর্থনীতি হুমকির মুখে

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে ভুল জ্বালানি নীতি, সংশ্লিষ্টদের অদক্ষতা ও দুর্নীতির কারণেই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান দুর্দশা সৃষ্ঠি হয়েছে। এই মতামতটি ৩০ জুলাই,

Read More »

অর্থ সংকট, তবু এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ সম্প্রসারণে এশিয়ায় সপ্তম বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল রাখতে বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী দরের মধ্যেও জ্বালানি সংগ্রহে মরিয়া পাকিস্তান। এর মধ্যেই দুঃসংবাদ দিল দেশটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহকারী ইতালিয়ান প্রতিষ্ঠান ইএনআই।  দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির আওতায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে আর এলএনজি কার্গো সরবরাহ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কোম্পানিটি। এর কারণ হিসেবে পাকিস্তানের নজিরবিহীন রিজার্ভ সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভঙ্গুর দশা এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণকেই দায়ী করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বিদ্যমান এ সংকটের মধ্যেই এশিয়ায় এলএনজি টার্মিনাল সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় দেশটির অবস্থান ছয় নম্বরে উঠে এসেছে। পাকিস্তান এ খাতে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব পেয়েছে বলে জ্বালানি খাতের মার্কিন তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের’ এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর পরই বাংলাদেশের অবস্থান, এশিয়ায় সপ্তম। এলএনজি টার্মিনাল সম্প্রসারণে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ।

Read More »

সৌরবিদ্যুতে মিলবে সংকটের সার্বিক সমাধান

বিশ্ব পরিবেশ ও জ্বালানি সংকটে সমূহ দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় নবায়নযোগ্য উৎস। পৃথিবীর প্রতিটি দেশ এখন সেদিকেই ঝুঁকছে। বাংলাদেশও অন্তত ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু প্রভাবশালী তেল-গ্যাস লবির দৌরাত্ম্যে সে ক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে সামান্যই। ছোট একটি দেশে অকৃষিজমি খুঁজে পাওয়াও সহজ নয়। তবে সোলার প্যানেলের দক্ষতা দিন দিন বাড়ছে। দামও কমছে পাল্লা দিয়ে। প্রচলিত সেন্ট্রাল ইনভার্টারের পরিবর্তে ডিস্ট্রিবিউটেড প্রযুক্তির ‘স্ট্রিং ইনভার্টার’ সৌর প্রকল্পের ডাউন টাইম ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনেছে।

Read More »

বারবার দাম বাড়িয়ে কি গ্যাস–সংকট মেটানো যাবে?

বিদ্যুতের দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর এক সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাহী আদেশে রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হলো গ্যাসের দাম। গড় মূল্যবৃদ্ধি ৮২ শতাংশ হলেও বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে মূল্যবৃদ্ধির হার ১৫০ থেকে ১৭৯ শতাংশ। (এবার গ্যাসের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি, প্রথম আলো, ১৯ জানুয়ারি ২০২৩) মাত্র সাত মাস আগেই জুন ২০২২ এ গ্যাসের দাম গড়ে ২৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এবার আবাসিক, পরিবহন এবং সার উৎপাদনে গ্যাসের দাম বাড়ানো না হলেও বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে গ্যাসের মূল্য প্রায় তিন গুণ হওয়ার ফলে বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, যা ইতিমধ্যেই মূল্যস্ফীতিতে বিপর্যস্ত জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে।

Read More »