মধ্যপ্রাচ্য সংকটে এলএনজি আমদানি ব্যাহত, ঝুঁকিতে বিদ্যুৎ–জ্বালানি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে পাল্টাপাল্টি আঘাত হানা হচ্ছে জ্বালানি স্থাপনায়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়মিত কমছে, বাড়ছে দাম। আমদানিনির্ভর দেশগুলোর সামনে তাই ঘোরতর সংকটের আশঙ্কা। বাংলাদেশে ৭০ শতাংশের বেশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির উৎস কাতার উৎপাদন বন্ধ রাখতে পারে দীর্ঘ সময়। ফলে গ্যাস–সংকটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত।
বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বাংলাদেশ

জ্বালানি খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর মতে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তাদের এলএনজি আমদানির যথাক্রমে ৯৯ শতাংশ ও ৭০ শতাংশ পায় কাতার থেকে।
অন্যদিকে বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারত তাদের এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি কাতার থেকে সংগ্রহ করে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে ২৫ বছরে ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় সম্ভব বাংলাদেশের

ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) ‘ইরান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এশিয়ার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আমদানি-নির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেভাবে জ্বালানি সাশ্রয় করছে পাকিস্তান

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে এক বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজার এখন অস্থির সময় পার করছে। এসময় পাকিস্তানের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা দেশটিকে বড় জ্বালানি ধাক্কা থেকে রক্ষা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি আমদানির চাপে থাকা বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য এতে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) প্রকাশিত সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ)- এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সৌরবিদ্যুতের কারণে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাকিস্তান তেল ও গ্যাস আমদানিতে ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় কমিয়েছে। বর্তমান দামের ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে আরও ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে।
লোকসানের অন্ধকারে বিদ্যুৎ খাত, বাজেটে বাড়ছে অসহনীয় চাপ

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অনুমোদন দেওয়া এবং বিদ্যুৎ ক্রয়ে নানা অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগের কারণে খাতটিতে লোকসান ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার সময় বিদ্যুৎ খাতে বিপুল অঙ্কের দেনা রেখে যায় তৎকালীন সরকার।
পরবর্তীতে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এড়াতে সেই দেনার বড় অংশ পরিশোধ করতে হয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখতে প্রায় ৬০ হাজার ২০০ কোটি টাকার বকেয়া পরিশোধ করতে হয়েছে, যা এককালীনভাবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া হয়েছে।
এলএনজিতে বিশ্বব্যাংকের ঋণ গ্যারান্টি চায় সরকার

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সম্প্রতি ইআরডির কাছে ঋণ পাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) কাছে ঋণ গ্যারান্টি চাওয়া হয়েছে। নতুন আবেদন মঞ্জুর হলে চলতি অর্থবছর বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংকের গ্যারান্টি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ কোটি ডলার। গত ২৩ ডিসেম্বর একইভাবে এলএনজি আমদানিতে বিশ্বব্যাংকের ৩৫ কোটি ডলারের ঋণ গ্যারান্টি চুক্তি সই করে সরকার।
জ্বালানি নিরাপত্তা কৌশল

বাংলাদেশ কোনোভাবেই ইরান যুদ্ধের অংশ নয়। তবু যুদ্ধটা এদেশে হচ্ছে। ইতিমধ্যে দেশে জ্বালানি যুদ্ধে জড়িয়ে পেট্রোল পাম্পে প্রাণহানির মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ঢাকার অভিজাত এলাকা সবখানে তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ নিয়ে উদ্বেগ। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প খাতে জ্বালানি পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। এ পরিস্থিতি ২০২২ সালেও হয়েছিল ইউক্রেনে হামলার পর। তবে এতো দ্রুত খারাপ হয়নি। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সংকট ঘনীভূত হয়। আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যয় মেটাতে গিয়ে সেবার মোটামুটি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ খালি হয়ে যায়। জ্বালানির ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধিতে মূল্যস্ফীতি চরমে ওঠে। এই ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ।
১০৭ বিলিয়ন ডলার এলএনজি বিনিয়োগ, ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: জিইএম

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো সম্প্রসারণ করলে বাংলাদেশ বাড়তি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে গ্লোবাল এনার্জি মনিটর (জিইএম)। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ সতর্কবার্তায় জানায় সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জিইএমের এশিয়া গ্যাস ট্র্যাকার অনুযায়ী, বর্তমানে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে মোট ১০৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এলএনজি টার্মিনাল ও গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে অথবা নির্মাণাধীন রয়েছে।
এলএনজি নির্ভরতার ফাঁদে বিদ্যুৎ–জ্বালানি খাত: ঋণ, ভর্তুকি ও অর্থনীতির নীরব বিপর্যয়?

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এখন বড় সংকটের মুখোমুখি। দীর্ঘদিন দেশীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হওয়ায় উৎপাদন কমেছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। পরের বছর ২০১৯ থেকে সিঙ্গাপুরের স্পট মার্কেট ও যুক্তরাষ্ট্র থেকেও আমদানি বাড়ে।
কাতার এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করায় চাপে বাংলাদেশ

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গ্যাস কমপ্লেক্স রাস লাফানে মোট ১৪টি এলএনজি ‘ট্রেন’ পরিচালিত হয়, যার সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭ কোটি ৭০ লাখ টন। এই বিপুল সক্ষমতার কারণেই কাতার বৈশ্বিক এলএনজি বাজারের শীর্ষ সরবরাহকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ফলে উৎপাদন বন্ধের ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইউরোপে গ্যাসের দাম ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরবরাহে অনিশ্চয়তা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।