সরকার কেন বছরে চার বার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে চায়?

ভর্তুকি কমাতে বছরে চারবার বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় করবে বিদ্যুৎ বিভাগ। আগামী তিন বছর এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ খাতে দেওয়া ভর্তুকি কমিয়ে আনতে চায় তারা। সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দিয়ে আসছে, সুতরাং এ খাতে ভর্তুকি কমানো হলে বিদ্যুতের দাম বাড়বে। তবে তিন মাস অন্তর বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির পরিকল্পনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন খাতের শিল্পকারখানার উদ্যোক্তারা।

সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ছে

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, দেশে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের ৮০ দশমিক ৯ শতাংশ সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমেই উৎপাদিত হয়। বাকি ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ বায়ুবিদ্যুৎসহ অন্যান্য শক্তির মাধ্যমে উৎপাদন হয়। সৌরবিদ্যুতের উৎসের মধ্যে রয়েছে সোলার হোম সিস্টেম, সোলার মিনি-গ্রিড, সৌর সেচ, সোলার রুফটপ, ওয়ার্কশপ, নেট মিটারিং রুফটপ সোলার প্রোগ্রাম, সোলার (সৌর) পার্ক, সোলার (সৌর) ওয়াটার হিটিং সিস্টেম, পানীয় জলের জন্য সোলার (সৌর) পাম্প ইত্যাদি।

সবুজ জ্বালানির বড় সম্ভাবনা সৌরবিদ্যুতে

বিশ্বজুড়েই বাড়ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। বিদ্যুতের লোডশেডিং ও বাড়তি উৎপাদন খরচের কারণে বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদন দুটোই বাড়ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় সম্ভাবনা এখন সৌরবিদ্যুতে। দেশে উৎপাদিত হচ্ছে এ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্রপাতি। সৌরবিদ্যুতের বর্তমান চিত্র ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে এই আয়োজন।

বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়লেও এলএনজি আমদানি কঠিন হবে: আইইইএফএ

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমতে থাকায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ানোর দিকে গেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে দুটি এলএনজি টার্মিনাল থেকে দিনে ১১০ কোটি এলএনজি সরবরাহের সক্ষমতা আছে দেশে। নতুন করে আরও টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহে চুক্তি করা হচ্ছে। তবে সক্ষমতা বাড়লেও আর্থিক পরিস্থিতির কারণে এলএনজি আমদানি বাড়ানো কঠিন হবে।

সক্ষমতা ২৬,৮৪৪ মেগাওয়াট উৎপাদন নেমেছে ১১ হাজারে

গত ১৫ বছর ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েই চলেছে সরকার। চাহিদা না থাকলেও সরকারি-বেসরকারি খাতে একের পর এক নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র। যদিও জ্বালানি সংকটের কারণে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সক্ষমতার বড় অংশই বসে থাকছে। এতে বসিয়ে রেখে দিতে হচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জ। আর লোডশেডিং বেড়েই চলেছে। বিশেষত মধ্যরাতে সর্বোচ্চ মাত্রায় লোডশেডিং হচ্ছে।

বিদ্যুৎ আমদানিতে ব্যয় ৯০ শতাংশ বাড়বে চলতি অর্থবছরে

স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারত থেকে আমদানির মাধ্যমে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশের মোট বিদ্যুৎ সরবরাহের ১২ শতাংশই করা হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ বাবদ ব্যয় হতে পারে ১৭ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। সেক্ষেত্রে এবার দেশে বিদ্যুৎ আমদানিতে ব্যয় বাড়তে পারে প্রায় ৮ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা বা ৯০ শতাংশের বেশি।

জ্বালানির বকেয়া পরিশোধে জরুরিভিত্তিতে ১ বিলিয়ন ডলার ও ৯ হাজার কোটি টাকা চায় বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়

বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সূত্র অনুসারে, তেল ও গ্যাসের বিদেশি সরবরাহকারীদের কাছে বকেয়া ঋণ বেড়ে ২০২৪ সালের মার্চ শেষে ১.৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ভারতের আদানি গ্রুপের কাছে ৭০০ মিলিয়ন ডলার দেনা রয়েছে। এছাড়া জ্বালানি তেল সরবরাহকারীরা ২৮০ মিলিয়ন ডলার এবং গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহকারীরা পাবে ৩২০ মিলিয়ন ডলার।

তাপমাত্রার পাশাপাশি বাড়ছে লোডশেডিং

গ্রীষ্মের শুরুতে রাজধানীতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ভালো থাকলেও লোডশেডিং অনেকটাই বেড়েছে গ্রামাঞ্চলে। যদিও বিদ্যুৎ বিভাগ এই মৌসুমে সর্বোচ্চ এক হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের ধারণা করছিল। তবে গতকাল দুপুরে লোডশেডিং এক হাজার ৭০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় লোডশেডিং আগামী কয়েকদিন তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে গতকালই প্রথম লোডশেডিং এক হাজার ১০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে।

বিদ্যুতের বাড়তি দাম ভোক্তার সহ্যক্ষমতার বাইরে: সিপিডি

সিপিডির পরিচালিত জরিপের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাসাবাড়িতে গড়ে বাড়তি বিল দিতে হবে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ। শীতে গড়ে মানুষকে অতিরিক্ত ১০৬ টাকা আর গরমকালে ১১৮ টাকা বাড়তি বিল দিতে হবে। নির্বাহী আদেশ নয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের মাধ্যমে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিপিডি।