অর্থ সংকট, তবু এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ সম্প্রসারণে এশিয়ায় সপ্তম বাংলাদেশ

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল রাখতে বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী দরের মধ্যেও জ্বালানি সংগ্রহে মরিয়া পাকিস্তান। এর মধ্যেই দুঃসংবাদ দিল দেশটিতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহকারী ইতালিয়ান প্রতিষ্ঠান ইএনআই।  দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির আওতায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে আর এলএনজি কার্গো সরবরাহ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কোম্পানিটি। এর কারণ হিসেবে পাকিস্তানের নজিরবিহীন রিজার্ভ সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভঙ্গুর দশা এবং বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণকেই দায়ী করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। বিদ্যমান এ সংকটের মধ্যেই এশিয়ায় এলএনজি টার্মিনাল সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় দেশটির অবস্থান ছয় নম্বরে উঠে এসেছে। পাকিস্তান এ খাতে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব পেয়েছে বলে জ্বালানি খাতের মার্কিন তথ্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের’ এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এর পরই বাংলাদেশের অবস্থান, এশিয়ায় সপ্তম। এলএনজি টার্মিনাল সম্প্রসারণে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব পেয়েছে বাংলাদেশ।

সৌরবিদ্যুতে মিলবে সংকটের সার্বিক সমাধান

বিশ্ব পরিবেশ ও জ্বালানি সংকটে সমূহ দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় নবায়নযোগ্য উৎস। পৃথিবীর প্রতিটি দেশ এখন সেদিকেই ঝুঁকছে। বাংলাদেশও অন্তত ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু প্রভাবশালী তেল-গ্যাস লবির দৌরাত্ম্যে সে ক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে সামান্যই। ছোট একটি দেশে অকৃষিজমি খুঁজে পাওয়াও সহজ নয়। তবে সোলার প্যানেলের দক্ষতা দিন দিন বাড়ছে। দামও কমছে পাল্লা দিয়ে। প্রচলিত সেন্ট্রাল ইনভার্টারের পরিবর্তে ডিস্ট্রিবিউটেড প্রযুক্তির ‘স্ট্রিং ইনভার্টার’ সৌর প্রকল্পের ডাউন টাইম ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনেছে।

বারবার দাম বাড়িয়ে কি গ্যাস–সংকট মেটানো যাবে?

বিদ্যুতের দাম ৫ শতাংশ বাড়ানোর এক সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাহী আদেশে রেকর্ড পরিমাণ বাড়ানো হলো গ্যাসের দাম। গড় মূল্যবৃদ্ধি ৮২ শতাংশ হলেও বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে মূল্যবৃদ্ধির হার ১৫০ থেকে ১৭৯ শতাংশ। (এবার গ্যাসের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি, প্রথম আলো, ১৯ জানুয়ারি ২০২৩) মাত্র সাত মাস আগেই জুন ২০২২ এ গ্যাসের দাম গড়ে ২৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এবার আবাসিক, পরিবহন এবং সার উৎপাদনে গ্যাসের দাম বাড়ানো না হলেও বিদ্যুৎ ও শিল্প খাতে গ্যাসের মূল্য প্রায় তিন গুণ হওয়ার ফলে বিদ্যুৎ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, যা ইতিমধ্যেই মূল্যস্ফীতিতে বিপর্যস্ত জনজীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে।

এক সময়ের ‘দামি’ সৌরবিদ্যুৎ এখন সবচেয়ে ‘সস্তা’

একটা সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দর সবচেয়ে বেশি ছিল। পাঁচ বছর আগে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৮ সেন্ট বা ২০ টাকার কাছাকাছি ব্যয় হতো। কিন্তু মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে সেই বিদ্যুতের দাম কমে ১০ সেন্টে নেমে এসেছে। কিন্তু এখন সৌর ছাড়া অন্য সব বিদ্যুতের উৎপাদন খরচই ইউনিটপ্রতি ১০ সেন্টের অনেক ওপরে। গত বুধবার (১৮ জানুয়ারি) গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করায় এখন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচও নবায়নযোগ্য জ্বালানির চাইতে বেশি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

খোলাবাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দামের নিম্নমুখী প্রবণতা দেশের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন কি?

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম খোলাবাজারে কমতির দিকে। এলএনজির দাম প্রতি ইউনিট ২৫ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। অথচ গত বছর বিশ্ববাজারে এ দাম ৭০ ডলারে উঠেছিল। দামের এ নিম্নমুখী প্রবণতা দেশের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন কি?

বছরে ৩ বিলিয়ন ডলারের আমদানি না করে গ্যাস অনুসন্ধানে বিনিয়োগ উত্তম

দেশের গ্যাস খাতের মহাপরিকল্পনাটি প্রণয়ন করানো হয়েছিল ডেনমার্কের প্রকৌশল ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান র‍্যাম্বলকে দিয়ে। সে সময় বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর মধ্যম মেয়াদি এক প্রক্ষেপণে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ২০২১ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর বাংলাদেশের চাহিদা পূরণে গ্যাস আমদানিতে ব্যয় করতে হবে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

সংকটের মধ্যেই বাড়বে গ্যাসের দাম, খাতভেদে ৫০–১০০ শতাংশ বাড়তে পারে

gas price should not be increased

সরকার আবারও গ্যাসের দাম বাড়াবে। মূল্যবৃদ্ধির প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে চলতি সপ্তাহে। জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ দফায় দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমদানি বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, বিদেশ থেকে বাড়তি দাম দিয়ে কিনে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ানো হবে। এ জন্য বেশি টাকা লাগবে। ভর্তুকি কমাতে সেই টাকার একটা অংশ ওঠানো হবে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে। ব্যবসায়ীরা বাড়তি দাম দিতে রাজি। যদিও এর আগে দুই দফা সরবরাহ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছিল। কিন্তু পরে গ্যাস আমদানি বাড়ানো হয়নি।

‘শুধু অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নয়, দৈনন্দিন খরচও বেড়ে যাবে’

বিদ্যুতের ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির ফলে ভোক্তাকে কেবল অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলই দিতে হবে তা নয়, বরং বিভিন্নভাবে তার দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। সম্প্রতি ভোক্তাপর্যায়ে বিদ্যুতের খুচরা দাম গড়ে প্রতি ইউনিটে ৫ শতাংশ বাড়ায় সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে খন্দকার মোয়াজ্জেম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বিদ্যুতের দাম বাড়ার ফলে ভোক্তা পর্যায়ে ব্যয় তো বাড়বেই, একইসঙ্গে বিদ্যুৎভিত্তিক কৃষি ও শিল্পখাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে। ফলে বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। এই দাম বৃদ্ধির ফলে সরকারের ভর্তুকি হয়তো কিছুটা কমবে, কিন্তু এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের যে প্রাপ্যতা, সেটা বাড়বে না। বরং বিদ্যুৎ পাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জ আছে, তা থেকেই যাবে।’

Bangladesh Power Pathways Newsletter, December 2022

Welcome to the Bangladesh Power Pathways Newsletter which tracks the narrative and progress in the energy and power nexus of Bangladesh. This monthly newsletter seeks to provide an overview of the discourse in the country’s energy/climate sector.

সৌরবিদ্যুতে মিলবে সংকটের সার্বিক সমাধান

বিশ্ব পরিবেশ ও জ্বালানি-সংকটে সমূহ দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র উপায় নবায়নযোগ্য উৎস। পৃথিবীর প্রতিটি দেশ এখন সেদিকেই ঝুঁকছে। বাংলাদেশও অন্তত ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু প্রভাবশালী তেল-গ্যাস লবির দৌরাত্ম্যে সে ক্ষেত্রে সাফল্য এসেছে সামান্যই। তবে ছোট একটা দেশে অকৃষিজমি খুঁজে পাওয়াও সহজ নয়। ১ মেগাওয়াট সোলার ফার্ম স্থাপনে ৩ একর জমির প্রয়োজন হয়। তবে সোলার প্যানেলের দক্ষতা দিন দিন বাড়ছে, দামও কমছে পাল্লা দিয়ে। প্রচলিত সেন্ট্রাল ইনভার্টারের পরিবর্তে ডিস্ট্রিবিউটেড প্রযুক্তির ‘স্ট্রিং ইনভার্টার’ সৌর প্রকল্পের ডাউন টাইম ব্যাপকভাবে কমিয়ে এনেছে।